মোঃ আমিরুল হক, জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
বালিয়াকান্দিতে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, হাজারো দর্শকের ঢল
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শালমারা নিশ্চিন্তপুর গ্রামে আয়োজিত এ খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলার প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতির এ আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী হাজারো দর্শক। ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলার সভাপতিত্ব করেন মোঃ সাকেন সরদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বালিয়াকান্দি উপজেলা কমিটির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ। এ সময় আর
ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কমিটির সহসভাপতি মোঃ জাফর আলী মিয়া ও কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ মোহসিন খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি লাঠিয়াল দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় নবাবপুর ইউনিয়নের বেরুলি গ্রামের আইয়ুব আলী সরদারের লাঠিয়াল দল প্রথম স্থান অধিকার করে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিল পাকুরিয়া গ্রামের লুৎফর সরদারের লাঠিয়াল দল। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গোলাম শওকত সিরাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম শওকত সিরাজ বলেন, লাঠি খেলা আমাদের গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে আমাদের অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এ খেলাকে পরিচিত করে তুলতে এবং বাংলার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই। আমাদের সবার উচিত এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করে। নিয়মিতভাবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা গেলে তরুণ প্রজন্ম দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় সভাপতির সভাপতির বক্তব্যে মোঃ সাকেন সরদার বলেন, লাঠি খেলা আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। একসময় গ্রামাঞ্চলে এ খেলার ব্যাপক প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনেক জায়গায় এ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি। বিকেল থেকেই লাঠি খেলা দেখতে মাঠে জড়ো হতে থাকেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। লাঠিয়ালদের ক্ষিপ্রতা, কৌশল, ছন্দময় লাঠি চালনা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। গ্রামীণ জনপদে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও উপস্থিত হন। অনেকের কাছে এ আয়োজন ছিল শৈশবের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ, আবার নতুন প্রজন্মের কাছে ছিল বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক বিনোদনের প্রসারের কারণে গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আজ আগের মতো আয়োজন করা হয় না। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে লাঠি খেলাকে পরিচিত করে তোলা এবং এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন আয়োজন করা প্রয়োজন। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ লাঠি খেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা। প্রকাশের আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করুন: আপনার দেওয়া তথ্যে স্থানটির নাম সালমারা ও শালমারা দুইভাবে এসেছে। সঠিক বানানটি নিশ্চিত করে পুরো সংবাদে একইভাবে ব্যবহার করবেন।

