হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
নবীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি বাহুবলে গ্রেপ্তার
৯ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ নির্যাতনের অভিযোগে আফরোজ মিয়া আটক; শিশুটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন, তদন্তে পুলিশ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর সংঘবদ্ধ নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আফরোজ মিয়াকে (৩৫) পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলা থেকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আটক আফরোজ মিয়া পানিউমদা ইউনিয়নের বরচর গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। স্থান
ীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং একাধিক স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রবিবার (২৪ মে) বিকেলে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী দোকানে যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আফরোজ মিয়া ও তার এক সহযোগী তাকে মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক পাশের নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার পরপরই একাধিক টিম কাজ শুরু করে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়। তিনি জানান, জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসি আরও বলেন, “এ ধরনের নৃশংস অপরাধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনার আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক ট্রমা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। পরিবার ও স্থানীয়রা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে স্কুল চলাচলের পথ, নির্জন এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

