জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
ঈদুল ফিতরের পর কমলগঞ্জে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা: ‘WAK’-এর হাত ধরে ডিজিটাল, মানবিক ও আত্মনির্ভর জনপদের স্বপ্নযাত্রা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ—সবুজে ঘেরা, সম্ভাবনায় ভরপুর একটি জনপদ। সেই জনপদই এবার প্রস্তুত হচ্ছে এক নতুন রূপে নিজেকে গড়ে তুলতে। ঈদুল ফিতরের পরপরই ‘উই আর কমলগঞ্জ’ (WAK) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন শুরু করতে যাচ্ছে এমন এক উদ্যোগ, যা কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তনের স্বপ্ন। এই স্বপ্নের নেতৃত্বে রয়েছেন ডক্টর অপু আবুল হাসান —যিনি বিশ্বাস করেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধুমাত্র সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে না; বরং মানুষের ইচ্ছাশক্তি, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই পা
রে একটি জনপদের ভাগ্য বদলে দিতে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি আধুনিক ‘WAK অ্যাপ’। এই অ্যাপটি হবে কমলগঞ্জবাসীর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা—যেখানে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক সেবা। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের জন্য এটি হবে একটি স্মার্ট গাইড, যা কমলগঞ্জের চা-বাগান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে যেমন মানুষের সময় ও কষ্ট কমবে, তেমনি বাড়বে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও। সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করছে। উপদেষ্টা কমিটি, স্থায়ী ও কার্যনির্বাহী কমিটি এবং একটি বড় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে WAK-এর কার্যক্রম। ঈদের পর স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন করা হবে, যা এই উদ্যোগকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ‘WAK’ আনতে চায় এক নীরব বিপ্লব। স্থানীয় পর্যায়ে ‘পাঠচক্র’ চালুর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করা, জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করে তুলতে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘5S’ নামে একটি সুদমুক্ত মডেল চালুর পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এই মডেলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, স্থানীয় ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগানোর এই চিন্তাভাবনা কমলগঞ্জকে একটি আত্মনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তর করতে পারে। যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে থাকছে বাস্তবমুখী উদ্যোগ। ড্রাইভিং, প্লাম্বিং, মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ভাষা শিক্ষা এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে, যাতে তারা দেশে-বিদেশে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। এটি শুধু বেকারত্ব কমাবে না, বরং একটি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও পিছিয়ে নেই এই উদ্যোগ। নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবিরসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ‘WAK’। পাশাপাশি সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ‘প্রেসার গ্রুপ’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, ‘উই আর কমলগঞ্জ’ কেবল একটি সংগঠন নয়—এটি একটি চিন্তা, একটি আন্দোলন, একটি স্বপ্ন, যা একটি পুরো জনপদকে বদলে দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবে এই উদ্যোগ। এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের—এই স্বপ্ন কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, আর কতটা গভীরভাবে ছুঁয়ে যায় কমলগঞ্জের মানুষের জীবন। তবে শুরুটা যে আশাবাদের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

