প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মামলা ছাড়াই থানায় ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ, আদালতে মামলা ও সংবাদ সম্মেলন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে কোনো মামলা ছাড়াই মোবাইল ফোনে থানায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও পরে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নাইওর নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। মূল সংবাদ: রোববার রাত ৯টায় শহরের কায়রান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান নাইওর অভিযোগ করেন, গত ১৩ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে মৌলভীবাজার মডেল থানার এসআ
ই মো. জাকির হোসেন রুবেল মোবাইল ফোনে তাকে থানায় ডেকে নেন। থানায় নিয়ে তাকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করানো হলে ওসি মো. সাইফুল ইসলাম তার শ্বশুরের জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নাক না গলাতে’ বলেন। এতে তিনি অসম্মতি জানালে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং গালে চড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় এলাকার কানু দাশ নামে এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার শ্বশুর শরিফত উল্লা (৬২) ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে মো. খলিল আহমদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় তুলে ধরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি এসআই মো. জাকির হোসেন রুবেলকে তার নামে একাধিক মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। কামরুল হাসান নাইওর জানান, তাকে হেনস্তা করে থানা লকআপে রাখা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, তার ৬ বছর বয়সী সন্তান বাড়িতে অসুস্থ রয়েছে এবং জরুরি ওষুধ নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন। তবে রাত ১২টার পর ১৪ জানুয়ারি তার শ্বশুরের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে খলিল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে ৩১ ডিসেম্বর ও ৬ জানুয়ারির কথিত ঝগড়ার অভিযোগ দেখিয়ে তড়িঘড়ি লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করে আদালতে চালান দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ তিনি বলেন, থানায় প্রবেশের সময় ছিল রাত ১০টা ৭ মিনিট, যার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। একই দিন আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় কামরুল হাসান নাইওর বাদী হয়ে মৌলভীবাজার ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে মামলা করেছেন। মামলার নম্বর ৪০/২৬।

