প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
চিকিৎসা নেই, উন্নয়নও নেই—ভোটেই পরিবর্তনের ডাক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চিকিৎসা নেই, উন্নয়নও নেই—ভোটেই পরিবর্তনের ডাক মাওলানা আহমদ বিলাল সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন মৌলভীবাজার–৩ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, ধনীরা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারলেও গরিব মানুষের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। অথচ সেখানে
গিয়েই তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভোটে বিজয়ী হলে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সঠিক সেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র এক হাজার বা দুই হাজার টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। কোথাও ফ্যামিলি কার্ড, কোথাও কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। অতীতে ১১ টাকার চাল বা বিনামূল্যে সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ কিছুই পায়নি—সবই ছিল ভাওতাবাজি। উন্নয়নের উদাহরণ টেনে মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, মালয়েশিয়া আমাদের অনেক পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও অল্প সময়েই উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়েও আমরা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দেখতে পাইনি। এবার জনগণ যদি আমাদের সুযোগ দেয়, ইনশাআল্লাহ আমরা উন্নয়ন করে দেখাবো। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, এনসিপি, এবি পার্টি, এলডিপিসহ ইসলামী সমমনা ১০টি দল জনগণের সামনে এসেছে। দেশের পক্ষে কথা বলার কারণে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার ক্ষমতায় গেলে নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি দাবি করেন। মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, “আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা পালিয়ে যাব না, প্রয়োজনে জেল খাটবো, তবু জনগণের আমানতের খেয়ানত করবো না।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে কোনো অফিসে কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীরা ঘুষ খেতে পারবে না এবং রাস্তা নির্মাণে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা হবে। দেয়ালঘড়ি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি একটি করে ভোট দেন, তাহলে বিজয় সম্ভব। আগামী ১২ তারিখ সকাল ৮টায় কেন্দ্রে গিয়ে দেয়ালঘড়ি মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মালিক খান। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

