প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
চুরি ছাড়া জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়” রাজনগরে নাসের রহমান
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।। মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসের রহমান বলেছেন, "আমি কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা বুঝতে পারছি না। এতোদিন ভিতরে ভিতরে ছিল আমার বোধহয় প্রতিদ্বন্দ্বীতা দাঁড়িপাল্লার সাথে। আজকে (শনিবার) দাঁড়িপাল্লার মালিকই বলে গেছেন দাঁড়িপাল্লা নেই। তাহলে দাঁড়িপাল্লা কার প্রার্থী? এটা তো রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ব্যাপার। তার জোটে মানে না। তার দল তাকে মানছে না। তাকে স্টেজে উঠতে দেয়নি। তাহলে কার হয়ে নির্বাচন করছেন? যেই লোক উপজেলা নির্বাচন করে তিন
নাম্বার হয়েছে, তাও আবার বিএনপির ভোট কিছুটা পেয়ে। হঠাৎ করে কোনো কথা নেই, বার্তা নেই এমপি ইলেকশন করার লাগি। এটা হয়নি? একটা মিনিমাম সমতুল্য বিষয় তো থাকতে হয়। কোনো যোগ্যতা আছে তার?" তিনি আরও বলেন, "আমরা হয়তো কোনো অদৃশ্য প্রার্থীর সাথে লড়ছি। থাকুক অদৃশ্যই থাক। এখন আমার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা নেতৃবৃন্দকে বলছি, ভাই নির্বাচনী বাহ্যিক প্রচারণার আর দুই দিন আছে। আর ঘরে বসে পাবে আরো দুই দিন। ১১ তারিখ তো সব প্রস্তুতির ব্যাপার। এদিন কোনো ক্যানভাস হবে না।" নাসের রহমান অভিযোগ করেন, "ধানের শীষের এতসব ব্যানার, বিলবোর্ড অথচ মানুষ পায় না। আজ বুঝতে পারছি আমাদের ব্যানার আর ফেস্টুন খুলে খুলে এই যে অদৃশ্য গুপ্ত দল তার মানুষ দিয়ে নামিয়ে নিয়ে গেছে। এটা আজকে বলতে পারি। ব্যানার আর ফেস্টুন নামিয়ে কি আমার ভোট নেয়া যাবে? এটা শিশুর মতো কাজ করছে। আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, সেন্টার কমিটি আছে। যেসব সেন্টারে কাস্টিং ১০ পারসেন্ট ভোট অন্য মার্কায় যাবে, তাহলে শুধু প্রশ্নের সম্মুখীন হবে না, ইউনিয়ন কমিটিও বাতিল করা হতে পারে। যদি কোনো গ্যাপ থেকে থাকে তাহলে দ্রুত শেষ করবেন। ইনশাআল্লাহ ধান ছড়ার ভোটের কোনো অভাব হবে না। এখানে অন্য কোনো মার্কা তেমন কোন ভোট পাবে না। আমার দলের নেতাকর্মীদের বলবো, আপনার এতদিন অনেক কষ্ট করেছেন, এখন ফসল উঠাতে হবে তো। ফসল যদি ভোটের দিন ঠিকমতো উঠাতে না পারেন, এ দোষ কার?" তিনি বলেন, "আমি শেষ বারের মতো বলছি রাজনগরের সকল ওয়ার্ড ও সেন্টার কমিটি যৌথভাবে মানুষের কাছে যান। ধানের শীষের দাওয়াত দিন।" নাসের রহমান বলেন, "ভোটের দিন সেন্টার পাহারা দিতে হবে। কারণ এই সেন্টারে জোচ্চরেরা যে চুরি করতে চায়, তাদের তো চুরি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখন জাতীয়ভাবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান বলে দিয়েছেন এবং বিদেশীদেরও তিনি বলেছেন, চুরি ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যেতে পারবে না।" চুরি ঠেকাতে তিনি নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন, "নির্বাচনের দিন পারলে রোজা রাখেন না পারলে আপেল বা কলা খাবেন দুপুরে। আল্লাহর ওয়াস্তে সেন্টার ফেলে রেখে বাড়িতে ভাত খেতে যাবেন না। যেকোনো সময় সেন্টারে তিন-চারশ মানুষ থাকা উচিত। আর ভিতরে পোলিং এজেন্ট থাকবে। তারা ভেতরে সব দেখবে। নির্বাচনের শেষে ভোট গণনা করে রেজাল্ট সীট নিয়ে সেন্টার থেকে যাবেন।" নাসের রহমান আরও বলেন, "এই সতেরো বছরে রাজনগরের যে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে, সেটা চালু করতে হলে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে। তাহলে আমি উন্নয়নের দায়িত্ব নিব। ১২ ফেব্রুয়ারী ভোট দিব কিসে ধানের শীষে,"—শ্লোগান তুলেন তিনি। তখন সকল নেতাকর্মীরা ধানের শীষের ভোট দেয়ার লাগারে লাগা ধান লাগা, ভোট দিব কিসে ধানের শীষে বলে স্লোগান তুলে পুরো এলাকা মুখরিত করে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজনগর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে গোবিন্দবাটিতে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টারের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, নাসের রহমান এর সহধর্মীনি রেজিনা নাসের, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মুকিত, বকসী মিসবাউর রহমান, মো. হেলু মিয়া, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুন্দর বক্স, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত, রাজনগর উপজেলা যুবদলের সভাপতি জোসেফ আহমেদ প্রমুখ। সভা শেষে ধানের শীষের সমর্থনে মিছিলে মুখরিত হয় সভাস্থল। পরে নাসের রহমান দলীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে রাজনগর কলেজ পয়েন্টে বিএনপির নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেন।

