মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ভ্যাকসিন সংকটে বিপাকে রোগী — মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসায় চরম দুর্ভোগ
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা বহু রোগী হতাশ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অথচ চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের কামড়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যান্টি-
রেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য দেরিও অনেক সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতির কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা দৈনন্দিন আয়ের উপর নির্ভরশীল, তাদের পক্ষে হঠাৎ করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা নেওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, একটি সরকারি হাসপাতালে এমন গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনের ঘাটতি থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালই সাধারণ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। সেখানে যদি জরুরি চিকিৎসা উপকরণ না থাকে, তবে মানুষ কোথায় যাবে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে এমন সংকট সাধারণ মানুষের মনে হতাশা সৃষ্টি করে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের ঘাটতি থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সারমর্ম: মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।

