রিয়াজ উদ্দিন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম ১০০ ডলারের দিকে
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। শনিবার বেঞ্চমার্ক ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক
-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা বেশি করে তেল কিনতে শুরু করেছেন, যার ফলে দাম কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষভাবে নজরে রয়েছে Strait of Hormuz, যা Persian Gulf ও Gulf of Oman-এর মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন শেয়ারবাজারে জ্বালানি কোম্পানির শেয়ার বেড়েছে, অন্যদিকে বিমান ও পরিবহন খাতের শেয়ার চাপের মুখে পড়েছে কারণ জ্বালানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তেলের দাম বাড়তে থাকলে তা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন পর্যন্ত বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দাম আরও বাড়তে থাকলে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। বর্তমানে বাজারের নজর পুরোপুরি ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকেই রয়েছে।

