মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মুন্সিবাজারের রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশপুরে রক্তাক্ত হামলা, নিহত ১ আহত ৩
মৌলভীবাজার জেলার মুন্সিবাজার এলাকার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আজ সকাল প্রায় ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তি হলেন মৃত ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী বকুল বেগম (৫৫)। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাশের বাড়ির মৃত আসিক মিয়ার ছেলে হেলিম তার ভাতিজাদের সঙ্গে কোনো এক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা
য় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হেলিমের ভাতিজা সাইদুল ও আলামিন প্রাণ বাঁচাতে পাশের ঘরের বকুল বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষিপ্ত হয়ে হেলিম ধারালো অস্ত্র নিয়ে বকুল বেগমের ঘরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এ সময় বকুল বেগমকে ডেগার দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার সময় বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়াও বাধা দিতে গেলে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি লাইফ লাইন হাসপাতাল-এ ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা গুরুতর এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া আহত সাইদুল ও আলামিনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত হেলিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় এলাকাবাসী ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে তাকে নিরাপদে কমলগঞ্জ থানা-এ হস্তান্তর করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সিদ্ধেশপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বকুল বেগমের স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, শান্তিপূর্ণ গ্রামে এমন নৃশংস ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

