মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রায় ১০ বছর একই কর্মস্থলে, পাউবোর উপ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যান্ত্রিক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগে বিভিন্ন মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও পুরোনো মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযো
গ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাতারকাপন এলাকার বিশাল মনু ব্যারাজ, বিভিন্ন ডাইক গেট, কাশিমপুর ও রাজনগর পাম্প হাউসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় গেট ও ইঞ্জিন মেরামত, যন্ত্রাংশ কেনা, রং করা এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণকাজে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় দেখানো হয়। এসব কাজের কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে বিভিন্ন ঠিকাদারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মনু ব্যারাজ, কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাশাপাশি সিলেট ও জকিগঞ্জের পাম্প হাউসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার যান্ত্রিক বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে সাইফুল ইসলামের ওপর। দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে থাকার কারণে এসব কাজ ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রভাব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। পুরোনো মালামাল বিক্রির টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন সম্প্রতি কয়েক বছরের পুরোনো পাইপ, যন্ত্রাংশ, পুরোনো গাড়ির মেশিনসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রির একটি দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৭ জুলাই এসব মালামাল বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সরকারি নির্ধারিত মূল্য ধরা হয় ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মালামাল সরেজমিনে পরিদর্শনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। টেন্ডারভুক্ত মালামালের একটি অংশ তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতরে এবং অন্য অংশ বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে অনেক আগ্রহী দরদাতা মালামালের পরিমাণ ও অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করতে পারেননি। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও একজন ঠিকাদারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নথিতে যোগদানের তারিখ ২০১৬ প্রাপ্ত একটি সরকারি নথিতে সাইফুল ইসলামের ২০১৬ সালে যোগদানের তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে এই কর্মস্থলের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের বক্তব্য, তিনি ২০১৬ সালে যোগদান করেছেন এবং বর্তমানে পুরো সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার প্রকৌশলীর অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালে যোগদান করেছি। আর আমি সমস্ত সিলেট বিভাগের দায়িত্বে আছি।’ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করা যেতে পারে। সাংবাদিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা তাঁর দায়িত্ব নয় এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নিউজ করার জন্য বলেন। ‘আমার কাছে কোনো দুর্নীতি ধরা পড়েনি মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, যান্ত্রিক বিভাগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর পদে অন্য কোনো কর্মকর্তা না থাকায় সাইফুল ইসলাম এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেও এখান থেকে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বদলি করতে পারছে না। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমার কাছে তাঁর কোনো দুর্নীতি ধরা পড়েনি। তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’ দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, সরকারি অর্থে বিভিন্ন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণকাজ, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা এবং পুরোনো মালামাল বিক্রির দরপত্র নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো এখন তদন্তের দাবি তুলেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি নিজের নজরে পড়েনি বলে জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

