মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
দীঘিনালায় এসএসসির ফল বিপর্যয়, ১৯ প্রতিষ্ঠানে পাস ২৫ শতাংশ
দীঘিনালায় এসএসসির ফল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১ হাজার ৪১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৫৭ জন। এতে সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। আবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ২০ শতাংশের নিচে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার পেয়েছে মুকুন্দ নীলিমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট।
প্রতিষ্ঠানটির ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা দীঘিনালা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। এ ছাড়া হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন এবং দীঘিনালা মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩১ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৯৭ ও ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে ফলাফলের নিচের দিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র আরও হতাশাজনক। দীঘিনালা বড়াদম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছোট মেরুং আশাফিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে সাতজন এবং ছোট মেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৪ জনের মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৫০ ও ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। উদাল বাগান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৮ জনের মধ্যে ১৪ জন, বাবুছড়ামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭ জনের মধ্যে নয়জন, পাবলাখালী শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ জনের মধ্যে সাতজন, কামাকছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩২ জনের মধ্যে চারজন এবং চংড়াছড়ি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ১১ দশমিক ১১ থেকে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশের মধ্যে। হাজাছড়া জোড়া ব্রিজ জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে অনার্থ আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯ জনের মধ্যে ১৮ জন এবং বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০৮ জনের মধ্যে ২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার যথাক্রমে ২২ দশমিক ৭৮ ও ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। রশিক নগর দাখিল মাদ্রাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জন পাস করেছে। পাসের হার ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। সবচেয়ে হতাশাজনক ফল হয়েছে জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯ জন এবং তারাবনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলের নথিতে বানছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, নয় মাইল ত্রিপুরাপাড়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়, চংড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর রেংকার্যা উচ্চ বিদ্যালয় ও রেংকার্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যা উল্লেখ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানকে সামগ্রিক হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাসের হার পাওয়া মুকুন্দ নীলিমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সঙ্গে শূন্য পাসের দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। সামগ্রিকভাবে উপজেলার পাসের হারও ৩০ শতাংশের নিচে। এমন ফলাফলে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যান দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র মূল্যায়ন না করে কম ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা জরুরি। শিক্ষকসংকট নিরসন, নিয়মিত একাডেমিক তদারকি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদারের মাধ্যমে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব। দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফলাফল পর্যালোচনা করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

