মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
চৌকস পুলিশের অভিযানে ডাকাত সর্দার রুবেল গ্রেফতার, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি
মৌলভীবাজারে চৌকস পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রে বড় ধাক্কা লেগেছে। কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দুইটি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা। পুলিশের দ্রুত ও পরিকল্পিত অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘটিত ঘটনায় পুলিশের ধারাবাহিক ও চৌকস অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রে বড় ধাক্কা লেগেছে। পরিকল্পিত অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়াসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়ে
ছে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ৬ থেকে ৭ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে ডাকাতদল গুলি ছোঁড়ে। এ সময় নিজেদের গুলিতেই দলের সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আহত অবস্থায় আতিককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পরপরই মাঠে নামে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। দক্ষ নেতৃত্ব, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতায় মামলার রহস্য উদঘাটনে দ্রুত অগ্রগতি আসে। গত ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলাম ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সর্দার রুবেল মিয়া এবং আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাইকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোরে সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলাবাগান থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও একটি পাইপগান এবং একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুইটি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল বলে জানা গেছে। জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস, এসআই উৎপল কুমার সাহা, এসআই জয়ন্ত সরকার, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান, কনস্টেবল পিন্টু চন্দ্র শীলসহ একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

