মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আইনজীবী সমিতির বার ভবনে হামলা, আহত ২
মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে হাজিরা দিতে এসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির ৩ নম্বর ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জসিম খান ও জমসেদ খান পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমি বা জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও উভয় প
ক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বিরোধের জেরে জমসেদ খান সদর মডেল থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। ওই অভিযোগের তদন্ত শেষে পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলে সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলায় হাজিরা দিতে উভয় পক্ষ আদালতে উপস্থিত হন। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, আদালতে হাজিরা শেষে জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে অবস্থানকালে এক পক্ষের লোকজন অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় জসিম খান, বেলাল খান ও সুজন খানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলায় সুজন খান গুরুতর আহত হন। এছাড়া আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত ব্যক্তিরা আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত সুজন খান বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন সদস্য জানান, তারা আদালতে নির্ধারিত মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে আইনজীবী সমিতির বারে অবস্থান করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল হক বলেন, “দুই বিবদমান পক্ষ আদালতে হাজিরা দিয়ে পরে বার ভবনে আসে। সেখানে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আদালত ও আইনজীবী সমিতির পরিবেশে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ ও আইনজীবী সমিতির বার ভবন বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। সেখানে সংঘটিত এমন ঘটনা আইনজীবী সমাজকে বিব্রত করেছে। ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের একটি দল বার ভবন ও আদালত এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং উপস্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘটিত কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। তারা আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আদালত চত্বরে নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি এবং পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

