মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
অফিস টাইমে নয়, মানুষের পাশে থেকেই পরিচয়: মৌলভীবাজার সদর ইউএনও রাজিব হোসেনের কর্মনিষ্ঠা আলোচনায়
সরকারি চাকরি মানেই নির্ধারিত অফিস সময়, ফাইলপত্র আর দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ এমন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে দায়িত্বশীলতার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অফিস সময়কে নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে তিনি স্থানীয়দের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন। মাঠ প্রশাসনে তাঁর সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে সরাসরি উপস্থিত থাকার বিষয়টি সাধারণ মানুষের পাশ
াপাশি বিভিন্ন মহলেও ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, রাজিব হোসেনের কর্মপদ্ধতি অনেকটাই ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি শুধু অফিস কক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং নিয়মিত মাঠে গিয়ে সমস্যার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন। কোনো অভিযোগ, জনদুর্ভোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতির খবর পেলেই সময়ের হিসাব না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হন। গভীর রাত হোক কিংবা সরকারি ছুটির দিন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় সামনে এলে তাঁকে দ্রুত সক্রিয় হতে দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ কেবল অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকাই প্রকৃত জনসেবার পরিচয়। সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় তিনি দিন-রাতের পার্থক্য না করে দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন, ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন, আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। দুর্যোগকালীন সময়ে তাঁর নিরলস উপস্থিতি ও সরাসরি তদারকি স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, এমন নিষ্ঠাবান ও মানবিক কর্মকর্তাকেই প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক বলা যায়। শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাই নয়, মাস কয়েক পুর্বে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সফর উপলক্ষেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিনি অত্যন্ত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি বিষয় তিনি নিবিড়ভাবে তদারকি করেছেন এবং দায়িত্ব পালনে এমন নিষ্ঠা ও সমন্বয় ছিল অনুসরণীয়। বড় একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সক্ষমতা অনেকের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়ন শুধু বড় কর্মসূচি সফল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণেও সেটি প্রতিফলিত হয়। এ ক্ষেত্রে ইউএনও রাজিব হোসেনকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন অনেকেই। প্রতিদিন অফিসে বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ কিংবা আবেদন নিয়ে আসা মানুষদের তিনি মনোযোগ দিয়ে সময় নিয়ে কথা শোনেন। অনেকেই জানান, তিনি তাড়াহুড়ো না করে অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং যথাসম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই মানবিক আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনেকাংশেই নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ববোধের ওপর। একজন কর্মকর্তা যখন একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেন, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে থাকেন এবং অফিসে আসা সাধারণ মানুষের কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন, তখনই তিনি প্রকৃত অর্থে একজন জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজে অনিয়মের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের বস্তুনিষ্ঠ প্রশংসাও হওয়া উচিত। কারণ একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাজ প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পেলে তা অন্য কর্মকর্তাদেরও আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী হতে অনুপ্রাণিত করবে। এতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি সেবার মানও আরও উন্নত হবে। সারমর্ম অফিসের নির্ধারিত সময় দিয়ে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে মূল্যায়ন করা যায় না; তাঁকে মূল্যায়ন করতে হয় মানুষের জন্য তাঁর কাজ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার মাধ্যমে। বন্যা পরিস্থিতিতে দিন-রাত এক করে মাঠে তদারকি, প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরে দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং প্রতিদিন অফিসে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন একজন জনবান্ধব প্রশাসকের পরিচয় তুলে ধরেছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর মতো দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মসংস্কৃতি দেশের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ুক। কারণ রাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা কেবল প্রশাসনের প্রতিনিধি নন, তিনি জনগণের সেবক। আর ভালো কাজের নিরপেক্ষ স্বীকৃতি অন্যদেরও জনকল্যাণে আরও আন্তরিক হতে উদ্বুদ্ধ করে।

