স্টাফ রিপোর্টার
দুঃসময়ে সালাউদ্দিনের পাশে ছিলেন রিপন, আড়ালেই রয়ে গেছে সেই ভূমিকা
রাজনীতির সুসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানুষের অভাব হয় না; কিন্তু দুঃসময়ে কে পাশে ছিলেন, ইতিহাস নীরবে সেই হিসাব রেখে দেয়। পদ-পদবি বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, সময়ের স্রোতে অনেক পরিচয় ম্লান হয়ে যায়—তবু দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি সহজে হারায় না। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে অসুস্থ সালাউদ্দিন আহমদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন। মামলার খোঁজখবর নেওয়া এবং শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে তাঁর সেই সফরের খবর প্রক
াশিত হয়েছিল একটি সংবাদপত্রে। সম্প্রতি পুরোনো সেই সংবাদ ও ছবি সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজনৈতিক দুঃসময়ে তাঁর উপস্থিতির স্মৃতি। সালাউদ্দিন আহমদ তখন ভারতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর নিখোঁজ হওয়া, শিলংয়ে অবস্থান এবং আইনি জটিলতা নিয়ে সে সময় দেশজুড়ে আলোচনা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ানো নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও সম্পর্কের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। পুরোনো সংবাদে রিপনের বক্তব্যে সালাউদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ফুটে উঠেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ দেশে ফিরতে পারবেন। রাজনীতিতে অনেকেই পরিচিত হন তাঁদের পদ দিয়ে, কেউবা পরিচিত হন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কারণে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কঠিন সময়ে তাঁর অবস্থান দিয়ে। কারণ, সুসময়ের উপস্থিতি অনেক সময় প্রয়োজনের তাগিদে আসে, আর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষের দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার পরিচয় বহন করে। আব্দুর রহিম রিপনের ২০১৭ সালের এই সফর তাই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার একটি স্মরণযোগ্য অধ্যায়। পুরোনো সংবাদটি সামনে আনার উদ্দেশ্য কাউকে বড় কিংবা ছোট করা নয়; বরং সময়ের আড়ালে পড়ে থাকা একটি ঘটনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান ছবিগুলো কেবল মুখচ্ছবি ধারণ করে না, ধারণ করে সময়ের সাক্ষ্য। শিলংয়ের সেই ছবিও মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতিতে পদ সাময়িক, ক্ষমতা পরিবর্তনশীল; কিন্তু দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাসই একজন মানুষের পরিচয়কে দীর্ঘস্থায়ী করে।

