মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উৎসবের আমেজে মৌলভীবাজার, উন্নয়নের নতুন স্বপ্নে জেগেছে জনপদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে মৌলভীবাজার। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জেলার মানুষ এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে। অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন ঘোষণার আশায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও। ২০০৮ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নে
তৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত ছিল জেলার মানুষ। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত মাঠেই এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো আসছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কয়েক দফা ভেন্যু পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠকে চূড়ান্ত করা হয়। এরই মধ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। জেলা বিএনপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার ও মৌলভীবাজার-বড়লেখা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং জেলা শহরকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা। স্থানীয় নেতাদের মতে, চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি, হাওর-বাঁওড় উন্নয়ন, নদী ও খাল খনন এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। জেলার অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা, যানজট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, জেলার সাতটি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভার মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে জেলা শহরে আসেন। কিন্তু সেই তুলনায় শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। যানজট নিরসন ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বাইপাস সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ইতোমধ্যে শহরের প্রধান সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। জনসভাস্থলে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল। শহরজুড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন, আর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা—প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন ঘোষণা। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই সফরকে ঘিরে নতুন করে জেগে উঠেছে মৌলভীবাজারবাসীর স্বপ্ন। জেলার মানুষ আশা করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচনের সূচনা হবে।

