মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিতের প্রত্যয়ে মৌলভীবাজারে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন
স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “নিরাপদ চিকিৎসা চাই” মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৭১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন বছরের জন্য অনুমোদিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ আব্দুল মুহিত, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাব্বির আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ ফজলুল হক। নবগঠিত এই কমিটি ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার সচেতন মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা হাসপাতাল ও ডা
য়াগনস্টিক সেন্টারকেন্দ্রিক নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত টেস্ট বাণিজ্য, রোগীদের হয়রানি এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এই সংগঠন। বিশেষ করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানহীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ রয়েছে, তা নিরসনে একটি সামাজিক ও জনমুখী প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন অনেকে। জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে নানা সময় সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দেখা গেলেও বাস্তবিক অর্থে তদারকি ও জবাবদিহির অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্রের কারণে স্বাস্থ্যসেবা এখন অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সেবার পরিবর্তে বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নিরাপদ চিকিৎসা চাই সংগঠনের নতুন কমিটি জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এমন প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকরা। তবে কমিটি গঠনের পর ভিন্ন মতও সামনে এসেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এই কমিটির কার্যক্রম আসলে কী হবে? শুধুমাত্র নামসর্বস্ব কমিটি হয়ে থাকলে এর কোনো সুফল জনগণ পাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, শুধু কমিটি ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবমুখী পদক্ষেপ, নিয়মিত মনিটরিং, অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তাহলেই স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুসংগঠিত রাখতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোরও কার্যকর তদারকি জরুরি। চিকিৎসা খাতে অনিয়ম বন্ধে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত এই খাতে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তারা জেলার স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব ও নিরাপদ করতে কাজ করবেন। রোগীদের অধিকার রক্ষা, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তারা সক্রিয় থাকবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় নতুন এই কমিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতদূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জেলার মানুষ আশা করছেন, কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে যদি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে মৌলভীবাজারে নিরাপদ চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

