মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দেওড়াছড়া চা বাগানে ‘গান্ধা’ চা পাতা বিক্রি নিয়ে বিতর্ক
দেওড়াছড়া চা বাগানে ‘গান্ধা’ চা পাতা বিক্রি নিয়ে বিতর্ক শ্রীমঙ্গলের দেওড়াছড়া চা বাগানে ‘গান্ধা’ চা পাতা বিক্রি ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কেজি চা পাতা কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগানের পঞ্চায়েত প্রধানসহ একাংশ শ্রমিক প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার কাস্টমস বিভাগ বাগানের খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি বিটিআরআই থেকেও একটি তদন্ত টিম সরেজমিনে
পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ বাগানের কয়েকজন শ্রমিক—জসিম উদ্দিন, সালু মিয়া, জোবায়ের, আব্দুল মালিক, রঞ্জিৎ মাদ্রাজি ও মল্লিক মিয়া—অভিযোগ করেন, উৎপাদন মৌসুম শেষে ফ্যাক্টরি পরিষ্কারের সময় যে ‘গান্ধা’ চা পাতা বের হয়, তা খাদ্যোপযোগী নয়। তাদের দাবি, প্রায় ৯ হাজার ৫৫০ কেজি পাতা বাইরে বিক্রি করা হয়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা আরও বলেন, বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার মৌখিক অনুমতির কথা বললেও কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এমনকি পূর্বে ফেলে দেওয়া পাতা সংগ্রহ করে বস্তাবন্দি করার ঘটনাও তাদের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ফ্যাক্টরি স্টাফ মো. নুর মিয়া জানান, ম্যানেজারের নির্দেশে তিনি পাতা ওজন করে দেন এবং পরে একটি পিকআপ ভ্যানে তা নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, “খাবারের অযোগ্য পণ্য বিক্রি হলে তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।” ম্যানেজারের ব্যাখ্যা অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার জহিরুল হক বলেন, পূর্বে এসব পাতা ফেলে দেওয়া হতো। চলতি বছরে টি বোর্ডের মৌখিক অনুমতিতে ৪ হাজার কেজি পাতা জৈব সার তৈরির জন্য বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠী বাগানকে আবারও লোকসানের মুখে ঠেলে দিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরনো পাতা সংরক্ষণ করা হচ্ছে কম্পোস্ট সার তৈরির নির্দেশনার অংশ হিসেবে। তদন্তের অগ্রগতি বিভাগীয় কাস্টমস কর্মকর্তা সৌরভ দত্ত বিজয় জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তদন্তের জন্য আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। দেওড়াছড়া চা বাগানের এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের ভেতর দিয়ে এখন সবার দৃষ্টি তদন্তের ফলাফলের দিকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে শ্রমিক, কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা—সবার স্বার্থই সুরক্ষিত হবে।

