মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন ২০২৬ বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি
শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, অপুষ্টিজনিত জটিলতা দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন ২০২৬ বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মৌলভীবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সারাদেশের ন্যায় মৌলভীবাজার জেলাতেও জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ থেকে ১১
মাস বয়সী ২৭ হাজার ১৬০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ২১ হাজার ৭০০ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬০ জন শিশু এই কর্মসূচার আওতায় আসবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিশুদের সহজে সেবা নিশ্চিত করতে ইপিআইয়ের ৭টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১ হাজার ৬৩৫টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে ২৪৫ জন সুপারভাইজার এবং ৩ হাজার ২৮৪ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ ক্যাপসুল, রেজিস্ট্রেশন সামগ্রী ও জনসচেতনতামূলক উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রেস কনফারেন্সে বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করে, রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা কমাতেও ভিটামিন এ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। প্রেস কনফারেন্সে বিশেষভাবে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আগামী ২৮ জুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ ভিটামিন এ কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। কোনো শিশুই যেন এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডেপুটি পরিচালক জসিম উদ্দিন, এমওসিএস ডা. এস. এম. শাহারিয়ার ফাহিম, নুসরাত হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি শতভাগ সফল হবে এবং জেলার প্রতিটি শিশুর কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

