জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদে বিল বিতর্কে নতুন মোড়, বিধিবিধান ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে গত শুক্রবার রাতে একটি পত্রিকার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে ঠিকাদার সেলিম দাবি করেন, অফিসের মাধ্যমে কাজ করানো হলেও তাঁকে বিল দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অন্যান্য ঠিকাদারও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। তবে এ বিষয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের বক্তব্য ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আলোচিত বিলের ক্ষেত
্রে মূল জটিলতা হলো প্রাক্কলনবহির্ভূত কাজ, কার্যাদেশ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন। ফলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কাজের নথি, অনুমোদন ও বিল পরিশোধের বিধিগত প্রক্রিয়া। মৌখিক নির্দেশে কাজ, বিল নিয়ে জটিলতা জেলা পরিষদ অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ঠিকাদার সেলিম মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আড়াই থেকে তিন বছর আগে তৎকালীন চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশে প্রাক্কলনবহির্ভূত অনেক কাজ করেছেন। তিনি অনেক টাকার কাজ করেছেন এটি কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করছে না। তবে প্রাক্কলনের বাইরে হওয়ায় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় ওই কাজগুলোর বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে অফিস। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, একজন ঠিকাদারের কাজ করার কথা ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী। সেখানে মৌখিক নির্দেশে প্রাক্কলনবহির্ভূত কাজ করা হলে তার দায়ভার বর্তমান অফিস কেন নেবে? সরকারি বিধিবিধান ও অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এসব কাজের বিল প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে। টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না সিইওর বক্তব্য ভিডিওটির ক্যাপশনে প্রকাশিত টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বক্তব্যের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি তো দূরের কথা, আমার অফিসের একজন স্টাফ কোনো কন্ট্রাক্টরের ফাইল থেকে বা অন্য কোনো ফাইল থেকে টাকা নিয়েছেন এমন কোনো অভিযোগ আমি কখনো পাইনি। তাঁর দাবি, মূলত অনুমোদনহীন কাজের বিল প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। ভিডিওতে নজরুল নামের এক ব্যক্তি বলেন, উনার মনগড়া মতো কাজ করিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু বিল দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনি কখনোই এস্টিমেটবহির্ভূত কোনো কাজ করার অনুরোধ করেননি। পুরোনো ভিডিও ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, প্রকাশিত ভিডিওতে জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজানের প্রায় তিন মাস আগের একটি বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে প্রশাসককে বলতে শোনা যায়, তিনি জেলা পরিষদে যোগদানের চার মাস হয়েছে। অথচ বর্তমানে তাঁর যোগদানের সাত মাস অতিবাহিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা পুরোনো ভিডিও বর্তমান বিরোধের সঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটি কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল এবং বর্তমান বিরোধের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুক তা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। তোয়েলের মানববন্ধন, অনুমোদন এসেছে ৪ অক্টোবর জেলা পরিষদের আরেকটি আলোচিত বিষয় ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তোয়েলের বিলসংক্রান্ত বিরোধ। এ বিলের দাবিতে তিনি গত ১ অক্টোবর মানববন্ধন করেন। জেলা পরিষদ কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের রিকাস্টকৃত অংশের অনুমোদন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৪ অক্টোবর এসেছে। অর্থাৎ মানববন্ধনের তিন দিন পর সংশ্লিষ্ট অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি ভুল বোঝাবুঝির দ্রুত অবসান হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অনুমোদন পাওয়ার পর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কী কী প্রশাসনিক ধাপ বাকি রয়েছে। সমাধানের পথ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চলমান বিরোধে একদিকে কাজ করে বিল না পাওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে অনুমোদন ও প্রাক্কলনবহির্ভূত কাজের ব্যাখ্যা দুটি বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ঠিকাদারদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও অনুমোদন অনুসরণ করাও অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট কাজের ওয়ার্ক অর্ডার, মূল ও সংশোধিত প্রাক্কলন, কাজের পরিমাপ, বিলের নথি এবং অনুমোদনের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হলে বিরোধের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

