মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মিরতিংগা চা বাগানে রাতের তাণ্ডব: এক রাতে কেটে ফেলা হলো ৭১ ছায়া বৃক্ষ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানে একের পর এক চুরি ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা এক রাতে ৭১টি সদ্য রোপিত ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলায় ক্ষোভ, আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে শ্রমিকদের মাঝে। দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের অধীনস্থ এ চা বাগান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ। প্রতিবছর এই বাগান থেকে সরকারের কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব জমা হয়। কিন্তু স
াম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে গাছ চুরি, অবকাঠামো ক্ষতি এবং নাশকতার ঘটনায় বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বাগান সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনটি এবং ১৬ এপ্রিল আরও একটি ছায়াদানকারী বৃক্ষ চুরি হয়। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও পরে আবারও দুর্বৃত্তরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সবশেষ গত ২২ এপ্রিল গভীর রাতে বাগানের ১৮ নম্বর সেকশন থেকে ২০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে রোপণ করা ৭১টি একাশিয়া প্রজাতির ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে কাটা গাছগুলো ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, বরং চা শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। কারণ ছায়া বৃক্ষ ছাড়া চা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং উৎপাদনও কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছায়া বৃক্ষ চা বাগানের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে চা গাছকে সুরক্ষা দেয়। ফলে এ ধরনের বৃক্ষ নিধন দীর্ঘমেয়াদে বাগানের উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। পরে তাদের নামের তালিকাসহ বিষয়টি কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরী এবং বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিক এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, চা বাগানের সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাগানের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শ্রমিক, পঞ্চায়েত ও সাধারণ মানুষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বাগানের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অন্যথায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পের জন্য এটি বড় অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে।

