জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সোমবারের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে। প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে মন্ত্রীর এ নির্
দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে। পরে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জনকে দ্রুত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশ সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে সোমবারের মধ্যে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি সেবায় গাফিলতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ মন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল সার্জনকে সোমবারের মধ্যে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া এবং সেই নির্দেশের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি দুটি পৃথক বিষয়। ফলে চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশের অপেক্ষা থাকছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু স্বাস্থ্যসেবা সিভিল সার্জন একটি জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকেন। জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বয়, তদারকি এবং বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। ফলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে সেটি শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জবাবদিহির প্রশ্ন। মৌলভীবাজারে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। হাসপাতালের সেবা, চিকিৎসক-জনবল ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীদের হয়রানি এসব বিষয়ে অভিযোগ থাকলে সেগুলোর প্রতিটিই আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও প্রশাসনের দায়িত্ব। শুধু প্রত্যাহার নয়, তদন্তও কি হবে? সিভিল সার্জনকে প্রত্যাহারের নির্দেশের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দায়িত্বে অবহেলার যে অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে কি না। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ঘটনা কী, কখন ও কীভাবে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে, এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় কী ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যাখ্যা কী এসব বিষয় প্রশাসনিক তদন্তে উঠে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন অপেক্ষা লিখিত আদেশের মন্ত্রী প্রকাশ্যে নির্দেশ দেওয়ার পর এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সোমবারের মধ্যে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে কি না এবং করলে কী ধরনের প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি না, কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা কোনো ব্যক্তির দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সেবার একটি মৌলিক অংশ। তাই একজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে অভিযোগের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

