মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিব, হিসাব সহকারী ও জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, অফিস সময়ের মধ্যে অনেক ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেক
ে মানুষ আসেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় সংশ্লিষ্ট সচিব, হিসাব সহকারী কিংবা জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার এসেও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের। ভুক্তভোগীরা জানান, অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করা হলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। কেউ বলেন মিটিংয়ে আছেন, কেউ বাইরে সরকারি কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ ফোনই রিসিভ করেন না। এতে করে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সবই নষ্ট হচ্ছে। এদিকে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সচিব ও হিসাব সহকারীদের বদলির আদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেকেই এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি, করলে ও সঠিক ভাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সরকারি বদলির নির্দেশনা যেন অনেকের কাছেই গুরুত্বহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক ইউনিয়নে বদলি হলেও দায়িত্ব পালন করছেন অন্যত্র, আবার কোথাও পুরোনো কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সচিবের কাছেই এখনো একাধিক ইউনিয়নের অফিসিয়াল আইডি ও ডিজিটাল এক্সেস রয়ে গেছে। ফলে বদলির পরও কিছু কার্যক্রম আগের কর্মস্থল থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এতে করে সেবা গ্রহণে জটিলতা আরও বাড়ছে এবং নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী জানান, একটি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছি। সচিবকে পাই না, জনপ্রতিনিধিরাও অনেক সময় অনুপস্থিত থাকেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।” আরেক ভুক্তভোগী বলেন, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় সেই সেবাই মিলছে না। অফিসে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া না গেলে মানুষ কোথায় যাবে? স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সেবা নিতে আসা অনেকেই মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও বদলির আদেশ অমান্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো যেন সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং হয়রানি ও ভোগান্তির অবসান ঘটে

