মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বিদ্যুৎ সংযোগে ‘ঘুষ বাণিজ্য’—ওয়াবদা অফিসে যেন প্রকাশ্য হরিলুট
মৌলভীবাজারের ওয়াবদা (পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন) বিদ্যুৎ অফিসকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—নতুন বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ নিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নতুন বিদ্যুৎ মিটার সংযোগের জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারিত থাকলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে করাতকল বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১ লাখ থেকে ১
লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে নানা হয়রানি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, একটি মসজিদে এসি চালানোর জন্য প্রায় ১২ হাজার লোডের একটি বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন করা হয়েছিল। এ সময় বিদ্যুৎ অফিসের এক দালাল পরিচয়ধারী ব্যক্তি প্রথমে ২৫ হাজার টাকা নেন এবং পরে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এমনকি ভালো মানের বৈদ্যুতিক তার না দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে নিয়ে পরদিন অফিসে গিয়ে প্রকৃত ফি যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নেওয়া ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য মিটার সংযোগ নিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। সারমর্ম: বিদ্যুৎ সংযোগের মতো একটি মৌলিক সেবাকে কেন্দ্র করে যদি ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়—সাধারণ মানুষের প্রতি এক ধরনের অবিচারও বটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে—কোনো কর্মকর্তা বা দালাল অবৈধভাবে অর্থ দাবি করলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সম্মিলিতভাবে এই অনিয়ম বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে।

