স্টাফ রিপোর্টার
চিকিৎসায় ভুল সিদ্ধান্তের অভিযোগ,কাতারপ্রবাসী শাহিনের
একজন প্রবাসী দেশে ফিরেছিলেন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার কর্মস্থলে ফেরার প্রত্যাশায়। কিন্তু চিকিৎসা নিতে গিয়ে এখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনরা। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি এলাকার কাতারপ্রবাসী শাহিন মিয়ার চিকিৎসায় ভুল সিদ্ধান্ত, অবহেলা ও যথাযথ তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ডা. সাদিকুল আলম পিয়াসের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিকার ও দায় নির্ধারণের দাবিতে জেলা সিভিল সার্জন এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শাহিনের পরি
বার। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসার পরই অবনতির অভিযোগ পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে শাহিন মিয়া মৌলভীবাজারের আল হামরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে ডা. সাদিকুল আলম পিয়াসের অধীনে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসার নথিপত্র দেখিয়ে স্বজনরা দাবি করছেন, চিকিৎসার পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের পর রোগীর অবস্থার উন্নতির পরিবর্তে ধীরে ধীরে অবনতি ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। বর্তমানে শাহিনের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ সময়মত সঠিক সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি এতটা সংকটাপন্ন হতো কি না, সেটিই এখন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসায় প্রকৃতপক্ষে ভুল বা অবহেলা হয়েছিল কি না, সেটি এখনো তদন্তাধীন। পরিবারের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিকতা, চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-প্রটোকল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবারের প্রশ্ন—কোথায় ছিল তদারকি? স্বজনদের দাবি, একজন রোগীর চিকিৎসায় শুধু ওষুধ বা পরামর্শ দেওয়াই শেষ কথা নয়; রোগীর অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাহিনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের একজন সদস্য বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছি না। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলা হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা হোক। আর যদি অভিযোগের সত্যতা না থাকে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হোক। আমাদের মূল দাবি শাহিনের জীবন রক্ষা এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন। তদন্তেই মিলবে প্রকৃত সত্য অভিযোগটি এখন সিভিল সার্জনের দপ্তরে যাওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে রোগীর প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসার সময়সূচি, হাসপাতালের নথি এবং রোগীর বর্তমান ও পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ জরুরি। বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার মাধ্যমেও প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন রোগীর পরিবারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে, অন্যদিকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। প্রবাসীর জীবন রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি এদিকে শাহিন মিয়ার জীবন রক্ষায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের ভাষ্য, তদন্তের প্রক্রিয়া চলবে কিন্তু রোগীর চিকিৎসা অপেক্ষা করতে পারে না। তাই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। গোয়ালবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদেরও দাবি, অভিযোগটি যেন কোনো পক্ষের প্রভাব, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা চাপের কারণে ধামাচাপা না পড়ে। আবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দায়ী করাও যেন না হয়। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। এখন নজর সিভিল সার্জনের তদন্তের দিকে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শুরু ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এবং চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় কী উঠে আসে তার ওপরই নির্ভর করছে এই গুরুতর অভিযোগের পরবর্তী পরিণতি। শাহিন মিয়ার পরিবারের প্রত্যাশা একটাই চিকিৎসার নামে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার বিচার, আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে প্রকাশ। তার আগে সবচেয়ে জরুরি একজন প্রবাসীর জীবন রক্ষা।

