জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
সিলিন্ডার সংকটের আড়ালে কালোবাজারি—গোপন মজুতের চিত্রে ফাঁস কৃত্রিম সংকটের রহস্য!
নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট। বাজারে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন দোকানে দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কোথাও বলা হচ্ছে “সিলিন্ডার শেষ”, কোথাও আবার “সরবরাহ বন্ধ”—এভাবেই চলছে ভোগান্তির দীর্ঘ চক্র। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। সম্প্রতি পাওয়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার একটি নির্দিষ্ট স্থানে সারিবদ্ধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে। অথচ বাজারে যখন সিলিন্ডারের “সংকট”, তখন এত বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার কোথা থেকে এলো—এ প্রশ্ন এখন জনমনে
। সংকট কি সত্যি, নাকি সাজানো নাটক? সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নিছক সংকট নয়—বরং পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা। বাজারে সরবরাহ না করে সিলিন্ডার গোপনে আটকে রাখা হচ্ছে, যাতে পরে উচ্চ দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত লাভ করা যায়। এভাবেই কয়েকটি গোষ্ঠী সুবিধা নিচ্ছে সাধারণ মানুষের দুর্বলতার সুযোগে। ভোগান্তিতে গ্রাহক, লাভে অসাধু চক্র এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম জরুরি উপকরণ। রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণে মানুষ আজ বিপাকে। গৃহিণীরা রান্না বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে কাঠ/চুলা ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাচ্ছে। আর ঠিক তখনই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুদামে গুদামে সিলিন্ডার আটকে রেখে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। প্রশাসনের নজর কোথায়? সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত বড় মজুত থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না। এই মজুত কারা করেছে, কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে, কার অনুমতিতে রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে তদন্ত জরুরি। ছবিটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, বাজারে সিলিন্ডার “নেই”—এ দাবি বাস্তব নয়। বরং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার ঘটনা ঘটছে। দ্রুত অভিযান ও শাস্তির দাবি জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত করে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি উঠেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কালোবাজারি আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, নাকি এই কৃত্রিম সংকট আরও বড় আকার ধারণ করে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে রাখে।

